রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২২
The Report
মাভাবিপ্রবির গ্রন্থাগারে সংকট, আসন ৫৫ জনে একটি
টিএনএন

মাভাবিপ্রবির গ্রন্থাগারে সংকট, আসন ৫৫ জনে একটি

তানভীর আহমেদ
প্রকাশের সময় : August 19, 2022 | শিক্ষা ও প্রগতি

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে বিভিন্ন সংকট দেখা যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা গ্রন্থাগার নিয়ে নানা অভিযোগ তুলেন।

সরজমিনে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে গিয়ে দেখা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে সাড়ে ছয় হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে আসন সংখ্যা অপর্যাপ্ত,  আসন রয়েছে ১২০ টি এবং গ্রন্থাগারের ভিতরে পর্যাপ্ত আলো বাতাস নেই,  দিনের বেলাতেও বাইরের সূর্যের আলো প্রবেশের সুযোগ নেই এবং দুইপাশে কাঁচ থাকায় বাইরে থেকে বাতাসও তেমন একটা পৌছায় না এবং ফ্যানগুলোর অত্যন্ত কম স্পিডে চলছে। অনেকগুলো ফ্যান ও লাইট নষ্ট হয়ে আছে।   বিদ্যুৎ চলে গেলেও জেনারেটর চালানো হয় না বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

গ্রন্থাগারে আসা শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, স্টাফরা মাঝে মধ্যে খারাপ আচরণ করেন এবং লাইব্রেরি খোলা থাকা অবস্থায় চেয়ার টেবিল টেনে ঝাড়ু দেওয়া হয়। সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে তারা অভিযোগ করেন দুপুরে এক ঘন্টা লাঞ্চের সময় শিক্ষার্থীদের গ্রন্থাগার থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং ওই সময় লাইব্রেরি এক ঘন্টা বন্ধ রাখা হয়।  শিক্ষার্থীরা আরো জানায়,  কতৃপক্ষ চাইলেই ওই সময়টায় এ আচরণ না করতেও পারে। কারণ হিসেবে বলেন, বই সব স্যাকরুমে থাকে,  সেখানে কেউ চাইলেই যেতে পারে না, সিসি টিভি ক্যামেরা থাকার পরও কেন এই সময় আমাদের বের করে দেওয়া যায় তা আমাদের মাথায় ঢুকছে না। পূর্বে গ্রন্থাগারটি রাত ৯.০০ পর্যন্ত খোলা থাকলেও বর্তমানে রাত ৮.০০ বন্ধ হয়ে যায়।  এ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থীরা। 

গ্রন্থাগারের উপ-গ্রন্থাগারিক নিউজ নেশনকে জানান,  আমরা ইঞ্জিনিয়ারিং শাখায় আমাদের ফ্যান লাইট বদলে দেয়ার আবেদন জানিয়েছি।  কিছু দিনের মধ্যে হয়ত এসব ঠিক হয়ে যাবে। লাইব্রেরি রাত ৮.০০টায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে বলেন, মেয়েদের হল ৮.০০ টায় বন্ধ হয়ে যায়। নিয়ে বেশ কয়েকবার বিপাকের মধ্যে আমাদের পড়তে হয়েছে।  এরপর লাইব্ররি মিটিং এ সময় আবার ৮.০০টা করা হয়েছে। 

গ্রন্থাগারের লাঞ্চের বন্ধ সময়টায় চাপ পড়ে ভবনটির নিচে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ক্যাফেটেরিয়াতে। 
লাঞ্চের সময়টায় সবাই একসাথে খেতে আসে সেময় গ্রন্থাগার বন্ধ থাকায় দুই একটা টেবিলে তখন অনেককে পড়তে দেখা যায়,  এতে অনেকের দুপুরের খাবার খাওয়ার আগেই সময় পার হয়ে যায় এবং ক্লাসে ফিরে যেতে হয়। 

এসব সমস্যা নিয়ে গ্রন্থাগারের ভারপ্রাপ্ত গ্রন্থাগারিক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ খাদেমুল ইসলামের সাথে কথা বলা হলে তিনি জানান, "গ্রন্থাগার ভাবনের নিচতলায় ক্যাফেটেরিয়ায় করার সিন্ধান্তটা সঠিক হয়নি,  বিশ্ববিদ্যালয়ে তৎকালীন সময়ে কোন ক্যাফেটেরিয়া না থাকায় সেসময় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে নিচ তলায় ক্যাফেটেরিয়া করা হয়৷"
আসন সংকট নিরসনে  তিন ও চারতলায় লাইব্রেরি সম্প্রসারণ সহ,  সম্পূর্ণ গ্রন্থাগারটি এয়ার কন্ডিশন করার জন্যও তিনি চার পাঁচ মাস আগে ভাইস চ্যান্সেলর বরারর আবেদন করেন বলেও জানান তিনি। 
ই-বুক লাইব্রেরি সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান ই-বুক লাইব্রেরি সাবক্রিপশন শেষ হয়ে গেছে,  বিষয়টি ভাইস চ্যান্সেলর স্যারকে জানানো হয়েছে। পরিশেষে তিনি আক্ষেপ করে জানান, "আমাদের শিক্ষার্থীরা লাইব্ররেরি মুখি না,  ২০ হাজার একাডেমিক বই থেকে বিগত দুই মাসে  বই ইস্যুর সংখ্যা ডজন খানেকের মত হবে। আমরা এতো এতো টাকা খরচ করছি, অথচ শিক্ষার্থী পড়াশুনা করছে না, গবেষণা করতে চাচ্ছে না। যা গ্রন্থাগারে আসে বেশির ভাগ চাকরির পড়াশুনা করতে আসে। " শিক্ষার্থীদের এমন আচরণে হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।

লাঞ্চের সময়টায় লাইব্রেরি খোলা রাখার বিষয়ে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ খাদেমুল ইসলাম বলেন,  "এইটা আমাদের এখন করা সম্ভব হবে না, কারণ হিসেবে স্টাফ সংকটের কথা তিনি জানান৷ তিনি আরো বলেন,  আমি চাইলেও কাউকে দুপুরের খাবার সময় কাউকে ছুটি না দিতে পারি না,  বিষয়টা অমানবিক। লাইব্রেরি সম্প্রসারণের পর স্টাফ সংখ্যা বাড়ানো গেলে হয়ত তখন লাঞ্চের সময়,  স্টাফ সিডিউলের মধ্যে সময় সমন্বয় করা যাবে। "

মাভাবিপ্রবির কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ভবনটি পাঁচতলা হলেও  গ্রন্থাগার রয়েছে শুধু দোতলাতে, তিন আর পাচ তলায় চারটি বিভাগের ক্লাস রুমে ছিল, যা বর্তমানে একাডেমিক বিন্ডিং-৩ এ স্থানান্তর করা হয়েছে।   চার তলায় একটি মুক্তিযুদ্ধ কর্ণার থাকলেও সেখানে পত্রিকার ভলিয়ম, ম্যাগাজিন ছাড়া কোন বই পড়তে দেয়না কতৃপক্ষ। চারতলায় গিয়ে দেয়া যায়,  একটি রিডিং রুমে উপ-রেজিস্টাররের বসার ডেস্ক রয়েছে পাশেই রিডিং টেবিল চেয়ার, রুমে কেউ নেই  অথচ ফ্যান লাইট চলছে। 

নানা সমস্যার কারণে অনেকে গ্রন্থাগার বিমুখ হয়ে পড়েছেন। অনেকেদিন ধরে চলমান এসব সংকট ও শিক্ষার্থীদের গ্রন্থাগার মুখি করতে তেমন কোন পদক্ষেপ দেয়নি প্রসাশন।