রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২২
The Report
গাইবান্ধায় গৃহহারা ভূমিহীনদের আর্তনাদ শোনার কি কেউ নেই  ?

গাইবান্ধায় গৃহহারা ভূমিহীনদের আর্তনাদ শোনার কি কেউ নেই ?

আশরাফুজ্জামান সরকার, গাইবান্ধাঃ-
প্রকাশের সময় : September 14, 2022 | বাংলাদেশ

সুন্দরগঞ্জে পাঁচটি পরিবারের নিজের কোনো জায়গা-জমি নেই। কোন উপায় না পেয়ে কুরুয়াবাদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরে থাকেন তারা। বৃষ্টি এলে টিনের চালা চুইয়ে পানি পড়ে। পানি ঠেকাতে হাঁড়ি-পাতিল দিয়েও লাভ হয় না, ঘরের ভেতর জমে হাঁটু পানি। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ শ্রীপুর কুরুয়াবাদা গ্রামে দেখা মেলে এই পাঁচটি পরিবারের। এসময় মাথায় ঘাসের বস্তা হাতে কাস্তে নিয়ে বিস্ময় চোখে দাঁড়িয়ে ছিলেন স্বামী হারা ভুমিহীন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম দুই মহিলাকে। নদী পার হয়ে চড়ে গিয়ে সারাদিন কুড়ানো ঘাস এবং খড়ি বিক্রি করে তাদের সংসার চলে। স্থানীয়রা জানায় ভিটে মাটি হারিয়ে পোড়ারচর থেকে ওয়াপদা বেড়িবাঁধে এসে আশ্রয় নেয় পরিবারগুলো। প্রায় ৬-৭ বার বসতবাড়ি নদীতে ভেঙ্গে যায় তাদের। এমন মানবেতর জীবন কাহিনী জানতে পাওয়া মানবাধিকার কর্মী সালাহউদ্দিন কাশেমের অনুরোধে রবিবার সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়,ভূমিহীন পরিবারগুলো নদী ভাঙ্গনে প্রায় ৬-৭ বার বসতবাড়ি বিলীন হয়ে যায়। পরবর্তী সময় একটু মাথাগোঁজার ঠাঁই নিয়ে পরিবার নিয়ে বসবাস করার জন্য আশ্রয় নেন দক্ষিণ শ্রীপুর করুয়াবাদা ওয়াপদার বাঁধে।কিন্তু সেখানেও থাকতে পারেনি সেই পরিবারগুলো। সরকারীভাবে বাঁধের কাজ শুরু হলে সেখান থেকে ঘরবাড়ী উচ্ছেদ করে দেওয়া হয় পরিবারগুলোর অনেক ঘরবাড়ী উচ্ছেদ করার পর অনেকেই বিভিন্ন জায়গায় থাকার জায়গা পেলেও এই পরিবারগুলো কোথাও ঠাই না হওয়ায় কুরুয়াবাদা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি পরিত্যক্ত জরাজীর্ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ঝুঁকিপুর্ণ এই ঘরে নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে তাদেরকে সরকারের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পে শতশত ঘর নির্মাণ করা হলেও তাদের ভাগ্যে জোটেনি একটি সরকারি ঘর। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে একেবারেই থমকে গেছে তাদের জীবনযাত্রা।তাদের দেখার কেউ নেই। নারী সমাজকর্মী দিশা সরকারসহ আরও অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,এই পরিবারগুলো অত্যন্ত গরীব।অনেক স্বচ্ছল মানুষ সরকারি ঘর পেলেও এদের ভাগ্যে জোটেনি সেই ঘর।১.মেনেকা বেগম (৫০) স্বামী ছাইদার রহমান ২. রিশুদিঘী (৭৫) স্বামী-মৃত.রাম দাস ৩.জেলেখা (৫৫) স্বামী মৃত.দুলা ৪.ননি বালা(৬৬) স্বামী মৃত.অমল দাস ৫.আলেমা বেগম(৫০) স্বামী হেসকারু মিয়া। এই সুবিধাবঞ্চিত ভূমিহীন পরিবারগুলো কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,অনেক দুঃখ-কষ্টে দিনতিপাত করছি আমরা একটি সরকারি ঘরের জন্য জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কাজ হয়নি। আমাদেরকে একটি করে ঘর দিলে শেষ বয়সে হয়তো ছেলে মেয়েদের নিয়ে একটু ঘুমাতে পারতাম। এবিষয়ে শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আজহারুল ইসলাম মুকুলের সাথে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি জানান পরিবারগুলো একেবারেই অসহায় সুযোগ-সুবিধা আসলে তাদের ঘর দেয়া হবে। ভূমিহীনদের বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল মারুফ জানান বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে যদি আবেদন করে থাকে যাচাই-বাচাই করে সঠিক ভূমিহীনদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহার তুলে দেওয়া হবে।