শুক্রবার, অক্টোবর ১৫, ২০২১
হায়রে জিলাপি বিলাস! হাসিনা আকতার নিগার

হায়রে জিলাপি বিলাস! হাসিনা আকতার নিগার

টিএনএন ডেস্ক
প্রকাশের সময় : August 24, 2021 | শিল্প ও সাহিত্য

রোজা সবে শুরু। বাঙালির কাছে রোজা মানে বাহারী খাবারের  আয়োজন। এ মাসে সংযমের নামে চলে অসংযমী জীবন।  তবে এবারের রমজান এসেছে একটা বৈরী পরিস্থিতিতে। করোনাভাইরাসের কারণে সাধারণ ছুটি চলছে সরকারিভাবে। আর লকডাউন চলছে করোনাভাইরাস প্রতিরোধের জন্য সচেতন থাকার জন্য। তবে কার্যত লকডাউনের কড়াকড়ি নির্দেশ মানছে না কেউ। পুলিশ কঠোর বলে এ রোজার মাসে ইফতার-সেহেরির পসরাটা জমে উঠেনি। পাড়া মহল্লায় অল্প-স্বল্পভাবে বিক্রি হচ্ছে ইফতার সামগ্রী।

কিন্তু খাবারের টেবিলে ইফতারটা জমে উঠছে না বলে এক শ্রেণির মানুষের হা হুতাশের অন্ত নেই। জানা মতে, সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতার করতে হয় খোরমা খেজুর আর পানি দিয়ে। যার কারণে রোজা এলে খোরমা খেজুর ধনী-গরিব সবাই কিনে। খাদ্য উপাদান হিসাবে খেজুরের আছে বিশেষ গুণ। আর ধর্মীয়ভাবে বলা হয়, নবীজি ইফতার করতেন খেজুর দিয়ে। তাই খেজুর দিয়ে রোজা ভাঙা সওয়াব।

এবারের করোনাকালীন ইফতারে দেখা গেল ভিন্ন এক রূপ। বাঙালির  খেজুর নয়, জিলাপি হলো বিশেষ ও উত্তম মেনু। যেন জিলাপি ছাড়া আমাদের চলেই না - এমন একটা দশা। সামাজিক মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে ঘরে ঘরে নারী-পুরুষ জিলাপির প্যাঁচ তৈরিতে ব্যস্ত। বিষয়টা লকডাউনের এক ঘেয়েমি কাটতে বেশ আনন্দদায়ক হলেও কষ্টকর মানবিক দৃষ্টিতে। 
 
বাঙালির জিলাপি বিলাস দেখে মনে হলো, এ জাতি আসলে কোনকালেই এক কাতারে সামিল হতে পারবে না। এক শ্রেণি দু 'বেলা ভাতের যোগাড় করতে লকডাউন মানতে পারছেন না। ত্রাণের আশায় তীর্থের কাকের মত বসে থাকছেন। আরেক শ্রেণির কাছে পুরান ঢাকার 'বড় বাপের পোলায় খায়' এ আইটেম  না  খাবার আপসোস বিলাসিতার চরম মাত্রা। জিলাপি, হালিম, বুন্দিয়া বানানোর কসরত দেখে মনে হচ্ছে উৎসবের আমেজে আছে বাঙালি।

 

সংযমের মাসে অসংযম রোজার মাহাত্ম্যকে নষ্ট করে। কিন্তু সময় ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে নিজেকে পরিচালিত করা উচিত সকলের। সামাজিক মাধ্যমে এমন মানুষও আছে, যারা এ মহামারীর কালে  অন্য বছরের মত ইফতার করতে পারছে না। কারণ এখন তাদের সবার আগে নিত্যদিনের খাবারের চিন্তা করতে হচ্ছে। তারা লজ্জায় হাত পাততে পারছে না । এমন মানুষ  হতে পারে আমার আপনার খুব কাছের চেনা জানা কেউ। তাই জিলাপীর প্যাঁচ আর বাহারি খাবার বানিয়ে ছবি দেয়ার আগে একবার ভাবুন কোনটা ঠিক, কোনটা বেঠিক।