শুক্রবার, অক্টোবর ১৫, ২০২১
জনগণকে জিম্মি করা ঠিক নয়

জনগণকে জিম্মি করা ঠিক নয়

টিএনএন ডেস্ক
প্রকাশের সময় : August 24, 2021 | সম্পাদকীয়

ক্ষমতার রেষারেষি

‘শিল-পাটায় ঘষাঘষি, মরিচের জান শেষ’—এ প্রবাদের মর্মার্থ হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারছেন বরিশাল নগরের বাসিন্দারা। সেখানকার নিরীহ নগরবাসী এ মুহূর্তে ‘মরিচ’ আর ‘শিল-পাটা’র ভূমিকায় আছে সিটি করপোরেশন ও উপজেলা প্রশাসন।

দেখা যাচ্ছে, মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে প্রধান আসামি করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করার পর সাদিক আবদুল্লাহর অনুসারীরা নানাভাবে প্রশাসনকে চাপে রাখার চেষ্টা করছেন। সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা তিন দিন ধরে কোনো ময়লা পরিষ্কার করছেন না। শহরের আবাসিক ভবন–সংলগ্ন রাস্তার ওপর গত তিন দিনে টন টন বর্জ্য জমা হয়েছে। মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহসহ অন্যদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার করা না হলে নগরীর ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। তবে গতকাল সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজে যোগদান করার নির্দেশ দিয়েছেন মেয়র।

নগরের প্রতিদিনকার বর্জ্য সাধারণত রাতের মধ্যেই ট্রাকে করে কাউনিয়া এলাকার পুরানপাড়া ডাম্পিং স্টেশনে নেওয়া হয়। সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা এ কাজ করেন। কিন্তু বুধবার রাত থেকে নগরীর প্রতিটি সড়কে স্তূপাকারে ময়লা-আবর্জনা পড়ে আছে।

 

মহাসড়কের দুই পাশে, এমনকি সড়কের মাঝখানে আবর্জনার স্তূপ থাকায় যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। বৃষ্টির পানিতে এসব বর্জ্যমিশ্রিত পানি ছড়িয়ে পড়ছে রাস্তাঘাটে। ফলে পরিবেশ বিষিয়ে উঠছে। মানুষের পায়ে-পায়ে ছড়িয়ে পড়ছে ঘরে ঘরে। দুর্গন্ধে এলাকায় টেকা দায় হয়ে পড়েছে। সাফাইকর্মীরা বাসাবাড়ি থেকে ময়লা না নেওয়ায় বাধ্য হয়ে অনেকে রাস্তায় ময়লা ফেলে আসছেন।

চলমান ঘটনা থেকে এটি স্পষ্ট, স্থানীয় রাজনৈতিক মহল ও প্রশাসনের ক্ষমতার রশি–টানাটানি চলছে। কিন্তু তার খেসারত জনগণকে দিতে হবে কেন, তা এক বিরাট জিজ্ঞাসা। নগরবাসী ময়লা অপসারণের জন্য নিজেদের পকেট থেকে পৌর কর্তৃপক্ষকে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করেন। সে ক্ষেত্রে দুই পক্ষের কোন্দলে তাঁরা কেন তাঁদের প্রাপ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হবেন? বাংলাদেশের বাস্তবতায় প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে গরিব ও একেবারে নিম্নপর্যায়ের কর্মীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা নতুন কিছু নয়। এ ক্ষেত্রেও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ব্যবহৃত হয়েছেন কি না, সেটাও তদন্ত করে দেখা উচিত। আর তা সরকারকেই করতে হবে। সর্বোপরি, সবার ওপরে জনগণের স্বার্থ—এ কথা সবারই বিবেচনায় থাকা উচিত।