সোমবার, জুন ২৭, ২০২২
The Report
স্ত্রীর কিডনিতে বাঁচল স্বামীর জীবন

স্ত্রীর কিডনিতে বাঁচল স্বামীর জীবন

TNN Desk
প্রকাশের সময় : January 18, 2022 | স্বাস্থ্য

স্ত্রীর কিডনিতে বাঁচল স্বামীর জীবন সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলা সদর নিবাসী মোঃ মন্টু খন্দকারের পুত্রবধূ শাহনাজ পারভীন মিতু তার একটি কিডনি দিয়ে বাঁচালেন স্বামী মোঃ জুয়েল রানাকে।

মিতু যেন সেই প্রাচীন বেহুলার প্রতিফলন। প্রায় চার হাজার বছর পূর্বে একই উপজেলার বিনসাড়া গ্রামের ধনাঢ্য বণিক সাহার কন্যা ছিলেন বেহুলা৷ জনশ্রুতি আছে, পতিব্রতা বেহুলা স্বামী লখিন্দরের জীবন বাঁচাতে কলার ভেলায় চরে স্বর্গে গিয়েছিলেন দেবী মনসাকে তুষ্ট করতে। একসময় ভেলাটি মনসার পালক মাতা নিতার কাছে আসে। তিনি নদীতীরে ধোপার কাজ করার সময় ভেলাটি ভূমি স্পর্শ করে। তিনি মনসার কাছে বেহুলার নিরবচ্ছিন্ন প্রার্থনা দেখে বেহুলাকে তার কাছে নিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি তার ঐশ্বরিক ক্ষমতাবলে চোখের পলকে বেহুলা ও মৃত লখিন্দরকে স্বর্গে পৌছে দেন। মনসা বলেন, তুমি তাকে (লখিন্দর) ফিরে পাবার যোগ্য, কিন্তু এটি কেবল সম্ভব হবে যদি তুমি তোমার শ্বশুড়কে আমার পূজারী করতে পার। “আমি পারব,” বেহুলা জবাব দেয় এবং সেই সাথেই তার স্বামীর মৃতদেহে জীবন ফিরে আসতে শুরু করে। তার ক্ষয়ে যাওয়া মাংস ফিরে আসে এবং লখিন্দর তার চোখ মেলে তাকায়। এরপর লখিন্দর বেহুলার দিকে তাকিয়ে হাসে। এর পরের ঘটনা সবার জানা। চাঁদ সওদাগরের পূজা দেওয়ার পর থেকে মর্ত্যে মনসার পূজার প্রচলন হয়।

প্রায় ২ বছর আগে কিডনি রোগে আক্রান্ত হন জুয়েল রানা। এক পর্যায়ে তার দু'টি কিডনি নষ্ট হয়ে যায়। বলতে গেলে তিনি মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছিলেন। দারিদ্র্যের দরুন তার পরিবার কিডনি প্রতিস্থাপন ব্যয় নির্বাহ করতে অসমর্থ ছিলেন। এই সংকটময় সময়ে এক হাতে স্বামী ও সংসারকে সামলিয়েছেন মিতু। ফেসবুক নির্ভর পোশাকের ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থে তার সংসার ও স্বামীর ডায়োলেসিস চলতো। অনেক খোঁজ করার পরেও কিডনি দাতা সংগ্রহ না হলে স্বামীকে বাঁচাতে ডাক্তারি পরিক্ষায় উত্তীর্ণ নিজের একটি কিডনি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন পতিব্রতা এই নারী ।

কিডনি যোগার হলেও প্রতিস্থাপনে ব্যয়ে প্রয়োজন ছিল প্রায় ১৩ লক্ষ টাকা৷ এই বিশাল অংকের টাকার অভাবে অপারেশন অনিশ্চিত হয়ে পরলে জুয়েলের বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা জুয়েলের পাশে এসে দাঁড়ায়৷ এছাড়াও, তাড়াশ উপজেলা পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন, উপজেলার সাংবাদিক সংগঠন, তাড়াশ স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন সহ অন্যন্য সামাজিক সংগঠন জুয়েলের অপারেশনের অর্থ যোগানে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক থেকেও সমমনা মানুষদের আর্থিক সহযোগিতা মেলে।

এরপর, গত ৬ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার প্রফেসর ডাঃ মোঃ কামরুল ইসলামের তত্বাবধায়নে "সিকেডি অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালে" এই দম্পতির কিডনি প্রতিস্থাপনের অপারেশন করা হয়। অপারেশন এর পরে চিকিৎসক জুয়েলের শরীরে তার স্ত্রীর কিডনি ঠিকঠাক কাজ করছে বলে নিশ্চিত করেন। বর্তমানে জুয়েল ডাক্তারের পরামর্শ মতে হাসপাতাল থেকে রিলিজ নিয়ে মোহাম্মদপুরে তার ভাড়া করা বাসায় অবস্হান করছেন এবং তিনি ও তার স্ত্রী দু'জনই সুস্হ আছেন।

জুয়েলের স্ত্রী শাহানাজ পারভীন বলেন, "ডাক্তারি পরীক্ষায় দুজনের কিডনি ম্যাচিং হয়েছিল যার ফলে নিজের একটি কিডনি স্বামীকে দেই। আমার পরিবার ও শিশু সন্তানের দিকে তাকিয়ে কিডনি প্রতিস্থাপন ও সুচিকিৎসার ব্যয় বহনে যারা আমাদের বিভিন্নভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন তাদের কাছে আমরা আন্তরিক কৃতজ্ঞ।"