বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ২৮, ২০২১



সদ্য সংবাদ

  •   বাংলাদেশের সব খবর সহ আন্তর্জাতিক, বিনোদন, খেলার খবর ও অন্যান্য সব ধরণের খবর সবার আগে অনলাইনে পেতে চোখ রাখুন "টিএনএন" এ। আমাদের সাথে যুক্ত হতে পারেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও।

বাংলাদেশ

:: টাঙ্গাইল ::

 কথায় আছে নামের মিলে যমে টানে।এখানে যমে নয় নামের মিলে পুলিশে ধরে জেলে পুরেছে চান মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে। টাঙ্গাইলের মধুপুরে ঘটেছে এমন ঘটনা। 

হাজতবাসী স্বামী চান মিয়া স্ত্রী  ও তিন সন্তান নিয়ে সুখের সংসার করছেন। কিন্তু স্ত্রীর করা যৌতুক মামলার আসামী হয়ে উপজেলার কুড়াগাছা ইউনিয়নের কুড়াগাছা বাজারের লেপ তোষকের ব্যবসায়ী সহজ সরল চান মিয়া গত বৃহস্পতিবার পুলিশের হাতে আটক হয়ে জেলে গেছেন। এ নিয়ে দুর্ভোগে পড়েছে হাজতে যাওয়া চানমিয়ার পরিবার।

 
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিআর  ১৭০/১৯ নং যৌতুকের ৩ ধারায় মামলার বাদী  জমিলা বেগম স্বামীর  সাথে থাকেন না। তিনি  ১২ বছরের এক মেয়ে সন্তান নিয়ে থাকেন ঢাকায়। যৌতুকের দাবি করায় গত এক বছর আগে তিনি তার স্বামী  চান মিয়ার নামেমামলা করে ঢাকায় গিয়ে গার্মেন্টেসে চাকরি করছেন । তার শ্বশুরের নাম (চান মিয়ার বাবা) জহুর আলী। মির্জাবাড়ী ইউনিয়নের ব্রাহ্মণবাড়ী গ্রামের তোরাপ বাজারের কাছে বাড়ি। পেশায়- গাছ কাটা।  অথচ: আটক হয়ে জেলে যাওয়া চান মিয়ার বাড়ি কুড়াগাছা ইউনিয়নের কুড়াগাছা গ্রামে । বাদী জমিলা বেগমের প্রতিবেশেী। তবে জেলে যাওয়া চান মিয়ার বাবার নামে কিছুটা মিল। তার নাম জরু সেখ। এই মিলে তিনি পুলিশের অভিযানে আটক হয়েছেন গত বৃহস্পতিবার। ওইদিনই তাকে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মধুপুর আমলী আদালতে হাজির করলে আদালত তাকে হাজতে নেয়ার নির্দেশ দেন।

বাদী জমিলা বেগম জানান, আটক হওয়া চান মিয়া নামের ব্যক্তি তার মামলার আসামী নন। তার বাবার বাড়ি কুড়াগাছা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আরও জানান, গত এক বছর আগে তিনি তার স্বামীর নামে যৌতুকের মামলা করেছেন। মামলার পর তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রী নিয়ে পলাতক রয়েছেন। মামলার একাধিকবার শোনানির দিনে আসামী হাজির হননি। পরে আদালত থেকে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি হয়।  গত বৃহস্পতিবার( ২৬ নভেম্বর)  পুলিশ কুড়াগাছা বাজারে গিয়ে লেপ তোষকের ব্যবসায়ী চান মিয়াকে আটক করে। আটক চান মিয়ার পরিবারের অভিযোগ- এসময়  স্বজনসহ স্থানীয়রা পরোয়ানার কাগজ বা কারণ জানতে চাইলেও পুলিশ কথা শুনেনি। সহজ সরল চান মিয়াকে এ মামলার আসামী  হিসেবে আদালতে হাজির করেছে। 

হাজতবাসী  চান মিয়ার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম জানান, তার স্বামী  নামে এ পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি।  তিনি দ্বিতীয় স্ত্রী হলেও প্রথম স্ত্রীর সাথে ছাড়াছাড়ি হয়েছে অন্তত ২০ বছর আগে। ওই ঘরের এক ছেলে তাদের সাথে থেকে ব্যবসা করছে।

মধুপুর থানার ওসি তারিক কামাল আজ সোমবার জানান, আটক হয়ে হাজতে যাওয়া চান মিয়া মামলার প্রকৃত আসামী  কিনা প্রমাণিত নয়। তবে বাদীকে আটক চান মিয়ার জামিন করার জন্য বলা হয়েছে। জামিনে আসলে যাচাই বাচাই করলে বিষয়টি খোলাসা হবে।
 



সর্বশেষ

ফেসবুকে আমরা